ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় রংপুর বিভাগের চারজন সংসদ সদস্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
রংপুর বিভাগ থেকে শপথ নেওয়া চারজন হলেন—
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
আসাদুল হাবিব দুলু
ফরহাদ হোসেন আজাদ
এর মধ্যে দুজন প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন, আর দুজন পূর্বে উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হওয়া এই নেতা দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
তিনি এর আগে উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লালমনিরহাটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় দুলু জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।
পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
স্বাধীনতার পর এই আসন থেকে প্রথমবার বিএনপি মনোনীত কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন।
তিনি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা ফরহাদ হোসেন ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও পরিচিত।
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ২৭ জনই এবার নতুন সংসদ সদস্য। মাত্র ৬ জনের পূর্ব সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়—
বিএনপি পেয়েছে ১৫টি আসন
জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ১৫টি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ২টি
১টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রংপুরে এবার ব্যাপক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ঘটেছে। নতুন নেতৃত্বের উত্থান ভবিষ্যতে অঞ্চলের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।