শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, তবুও তিনি প্রধান শিক্ষক। ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দেওয়া এবং লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগঞ্জের বারুদহ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পাহাড় জমলেও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। এমনকি প্রতিবাদ করায় দাতা সদস্যের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিস্তারিত রংপুরের অনুসন্ধানী রিপোর্টে।
শিক্ষার আলো ছড়ানোর কথা যার, সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অন্ধকার অভিযোগ। রংপুরের পীরগঞ্জের বারুদহ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম। অভিযোগ, তিনি এসএসসি ও বিএ-তে তৃতীয় বিভাগে পাস করেও তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করে আছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূর ইসলাম দাবি করেন, আব্দুল হালিম ও তার মামা হারুনের নিয়োগ হয় ১৯৯৮ সালে। কিন্তু তারা ১৯৯৫ সালের ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেতন তুলছেন।
প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ফরহাদ অভিযোগ করেন, আব্দুল হালিম সভাপতিদের ম্যানেজ করে আত্মীয়স্বজনকে ভুয়া নিয়োগ দিয়েছেন। ভুয়া ল্যাব দেখিয়ে এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই টাকায় ব্যাংক ঋণ শোধ করেছেন, বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি। এমনকি স্কুলের ল্যাপটপও তার মাদকাসক্ত ছেলে দখল করে রেখেছিল বলে অভিযোগ।
সহকারী শিক্ষকরা ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় এমন দুর্নীতি ও অনিয়ম মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।