যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায় বাংলাদেশের জন্যও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি নিয়েই এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—শুল্ক বাতিল হলে কি সেটি বহাল থাকবে, নাকি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্ল্যান-বি’ আবারও বাংলাদেশকে কঠিন অবস্থায় ফেলবে?
মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায়ে বলেছেন—জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ট্রাম্প যে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করেছিলেন, সেটি শুল্ক আরোপের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের পর্যায়ে পড়ে।
এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের ওপর পূর্বে আরোপিত ১৯% পাল্টা শুল্ক কার্যকর থাকছে না। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের Trade Act-এর 122 ধারা ব্যবহার করে বৈশ্বিকভাবে ১০% নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণা করেন। এতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারতসহ চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোকেও একই হারে শুল্ক দিতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও—আগের ১৯% নয়, নতুন করে ১০% শুল্কই প্রযোজ্য হবে
এটি স্বস্তির মনে হলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন—ধারা ১২২ অনুযায়ী, এই শুল্ক ১৫০ দিনের মধ্যে ৫০% পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব, যদি বাণিজ্য অংশীদার দেশের শ্রম, পরিবেশ বা ন্যায্য বাণিজ্যচর্চায় অনিয়ম পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত RMG অর্থাৎ তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার—প্রতি বছর ৮০০ কোটি ডলারের রপ্তানি।
ট্রাম্পের আগের সিদ্ধান্তে—
অর্থনীতিবিদরা এটিকে বলেছেন “অসম ও জবরদস্তিমূলক” চুক্তি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই শুল্ক বাতিল হলেও—চুক্তির অন্য শর্ত বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন—“এই মুহূর্তে পুরনো চুক্তির আলোচনা পুনরায় খুলতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বাংলাদেশের উচিত অপেক্ষা করা এবং অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি জোরদার করা।”
তিনি আরও বলেন—
BKMEA সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন—“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে এটি মোটেই সমান সুযোগের ছিল না। ট্রাম্পের শুল্কনীতি খুবই অনিশ্চিত—আজ ১০%, কাল আবার কী হয় বলা যায় না।”
ব্যবসায়ীদের মতে, এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাজ হলো— শ্রম মান উন্নয়ন, গ্রীন কমপ্লায়েন্স, কারখানার কর্মপরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে আনা, মার্কিন তদন্তে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেই প্রস্তুতি নেওয়া।