মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

মেডিকেল সনদে ‘চা-মিষ্টি’ খরচ! লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিসে ঘুষের অভিযোগ

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ জন সংবাদটি দেখেছেন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিসে মেডিকেল ফিটনেস সনদ নিতে এসে ঘুষের অভিযোগ তুলেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকরা। অভিযোগের কেন্দ্রে অফিসের প্রধান সহকারী, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বড়বাবু’ নারায়ণ চন্দ্র।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সিভিল সার্জন অফিসে ভিড় করেন ২৩৫ জন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। চাকরির চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে তাদের মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট জমা দিতে হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই সুযোগেই প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। ‘রমজান মাসে চা-মিষ্টি খাওয়ার খরচ’ বলে কোনো রশিদ ছাড়াই এই টাকা নেওয়া হয়।

কালীগঞ্জ থেকে আসা এক শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফিটনেস সনদ নিতে গেলে নির্ধারিত কোনো সরকারি ফি ছাড়াও ২০০ টাকা করে চাওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাতে দেরি ও হয়রানির আশঙ্কা দেখানো হয়। বাধ্য হয়েই তারা টাকা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য টাকা নেওয়া বন্ধ রাখা হয় বলেও জানান তিনি।

অফিস সহায়ক সাহেদ প্রকাশ্যে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্রের নির্দেশেই তিনি সবার কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। কেউ ২০০, কেউ ১০০ টাকা দিয়েছেন। সংগ্রহ করা অর্থ বড়বাবুর কাছেই জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণ চন্দ্র প্রথমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তারা আসায় টাকা নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। তার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, সিভিল সার্জনের কক্ষের সামনেই এই অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটলেও জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম দাবি করেছেন, তার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তিনি বলেন, সরকারি কাজে কোনো ধরনের টাকা বা ঘুষ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com