ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘প্রিমা’ নামের ওই ট্যাংকারটি আইআরজিসি নৌবাহিনীর দেওয়া বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে চলাচল করছিল। পরে ড্রোন ব্যবহার করে ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয়।
তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ম ভঙ্গ করা ট্যাংকারটির বিরুদ্ধে এই হামলার ঘটনা আজ সকালে ঘটেছে।
জাহাজ চলাচল বিষয়ক তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, প্রিমা একটি তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাংকার, যা মাল্টার পতাকা নিয়ে চলাচল করছে।
হরমুজ প্রণালির কাছে মাল্টার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য না মিললেও, এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিস্তারিত আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলসীমার কাছেই আক্রান্ত হলো মাল্টার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সূত্র বলছে, ইরানি কোস্টগার্ড বা রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডোরা এই অভিযানের পেছনে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় ট্যাংকারটি পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমার দিকে এগোচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও ড্রোন ফুটেজ অনুযায়ী, গতিপথ আটকে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীকে সতর্ক সংকেত পাঠানো হয়েছে।
ইরান যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সম্প্রতি তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের ওপর কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক উস্কানি আসলে তারা হরমুজ প্রণালিকে অনিরাপদ করে তুলবে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা চাপের মুখে এটি ইরানের একটি পাল্টা জবাব।“হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কেবল একটি জাহাজের ক্ষতি নয়, এটি পুরো বিশ্বের সাপ্লাই চেইনকে বাধাগ্রস্ত করার নামান্তর। এর ফলে বীমা খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হবে।”হামলার খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক শিপিং কোম্পানি ইতিমধ্যেই ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা বিকল্প রুট ব্যবহারের কথা ভাবছে।
মাল্টার এই ট্যাংকারে হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের এক বিপজ্জনক বহিঃপ্রকাশ। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে, বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।