কাতারের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার সরকারের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে, এতে গ্যাস স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় সময় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে কাতারএনার্জি জানায়, রাস লাফানের পাশাপাশি আরও কয়েকটি এলএনজি স্থাপনায় নতুন করে হামলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তবে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তারপরও পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল। সেই তালিকায় কাতারের রাস লাফান ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নাম ছিল।
এই হামলার জেরে কাতার ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কাতারের আমির ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। তিনি বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বে মোট এলএনজি সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
এদিকে একই সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।