মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে এবার কুয়েত-এর একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগেই এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সরকারি সূত্র জানায়, হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি বিশুদ্ধকরণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট করা হয়নি। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগার-এ ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন ধরে যায়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, দ্রুত দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর শোধনাগার এলাকার আশপাশে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার গুজবও নাকচ করেছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এটি একই শোধনাগারে তৃতীয়বারের মতো হামলা। ফলে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের ভৌগোলিক অবস্থান—বিশেষ করে ইরান-এর নিকটবর্তী হওয়ায়—এ ধরনের হামলার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। দেশটি ইরান থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এখন জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি পড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা বাড়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।