অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন বসুন্ধরা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকল্পপ্রধান জাকারিয়া জালাল। তিনি দাবি করেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সম্ভাবনাময় একাধিক প্রকল্প বাতিলের ফলে বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাকারিয়া জালাল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত হওয়া ৩০টির বেশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এক নোটিশে বাতিল করা হয়। এসব প্রকল্প থেকে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল এবং প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্প উন্নয়নকারীরা ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগও করেছিলেন, যা পরবর্তী ধাপে আরও বড় আকারে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল।
প্রকল্প বাতিলের পেছনে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, পদ্ধতিগত অনিয়ম এবং জাতীয় গ্রিডের কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হলেও, এত বড় পরিসরে একসঙ্গে বাতিলের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এই অবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ জরুরি ছিল। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের ফলে—
জাকারিয়া জালাল প্রশ্ন তোলেন, পুরো প্রকল্প বাতিল না করে সংশোধনের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল কি না। তার মতে, এতে সময়, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা—সবই রক্ষা পেত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি মিশ্রণে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারত।