রংপুরে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ৪০০টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক অফিস সহকারী শামসুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মায়া ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রংপুর বিশেষ জজ আদালত-এ আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞা এ আদেশ দেন।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলায় গত সপ্তাহে আদালত শামসুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে তিনটি ধারায় আট বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।
রায়ের পর থেকে তারা পলাতক ছিলেন। পরে সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শামসুল ইসলাম রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী একাধিক জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে তিনি প্রায় ৪০০টি অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করেন। প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে তিনি ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় জালিয়াতি প্রকাশ্যে এলে ২০১৮ সালে দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সমর কুমার ঝাঁ তাজহাট থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে ২০১৭ সালে অবৈধভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমূল্য চন্দ্র রায় মহানগর কোতোয়ালি থানায় আরেকটি মামলা করেন। এ সময় অভিযুক্তের অফিস কক্ষ থেকে নগদ অর্থ, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র উদ্ধার করা হয়।
দুদকের তদন্তে আরও জানা যায়, শামসুল ইসলাম তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।