মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

জ্বালানি সংকটে ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছে গ্রামাঞ্চল

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ জন সংবাদটি দেখেছেন
জ্বালানি সংকটে ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যার বড় চাপ পড়ছে গ্রামাঞ্চলে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এতে গড়ে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট দেখা দেয়। ফার্নেস তেল, কয়লা ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ রয়েছে।

সরকার এখন তুলনামূলক কম খরচের গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সীমিত রাখা হচ্ছে উচ্চ ব্যয়ের কারণে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল দেশে প্রায় ১৪৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৬০ মেগাওয়াট হলেও ঢাকার বাইরে লোডশেডিং হয়েছে ১১২২ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে ২০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য বলছে, ১৮ এপ্রিল দিনের বিভিন্ন সময়ে ৮০০ থেকে ১২৫৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দৈনিক ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

রংপুরের পীরগাছার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, “দিনে ৭-৮ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কখন আসে, কখন যায় বোঝা যায় না। এতে কৃষিকাজ ও ঘরের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”

অন্যদিকে শহরে তুলনামূলক কম লোডশেডিং হলেও সামনের এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

জাতীয় গ্রিড পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত। ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেশি থাকায় পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় সেখানে চাপ কম।

১৮ এপ্রিল পূর্বাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছে ১০ হাজার ২০ মেগাওয়াট, যার মধ্যে ঢাকাতেই ৫৬১৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে পশ্চিমাঞ্চলে মোট সরবরাহ ছিল ৪২৯৫ মেগাওয়াট।

জ্বালানি সংকটে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে—

  • গ্যাসভিত্তিক: ১০টি
  • তেলভিত্তিক: ৮টি

এছাড়া ৩৫টি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে চলছে, যার বেশিরভাগই তেল ও গ্যাসভিত্তিক।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমলেও বড় আকারের লোডশেডিং এড়াতে গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।

গরমের শুরুতেই বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়ায় সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনভোগান্তি বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com