বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

রূপপুরে আজ জ্বালানি লোডিং, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় মাইলফলক

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪১ জন সংবাদটি দেখেছেন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে পারমাণবিক জ্বালানি বা ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অবকাঠামোগত নির্মাণ পর্যায় পেরিয়ে অপারেশনাল ধাপে প্রবেশ করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন,

  • ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ১৫ দিন
  • এরপর আরও ১৫ দিন চলবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
  • সব মিলিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে এই ধাপ শেষ হবে

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী আগস্টের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে, যা পরে ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের সূত্র বলছে, রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান,

  • দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং শুরু হবে ২০২৭ সালের জুনে
  • ওই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে ২,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে

তৃতীয় প্রজন্মের VVER-1200 প্রযুক্তির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ‘কোর ক্যাচার’ প্রযুক্তি চুল্লির অতিরিক্ত তাপ বা দুর্ঘটনা সামাল দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। এছাড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প বা জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার সক্ষমতাও রয়েছে।

চুল্লিতে ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল স্থাপনের পর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে, আর সেখান থেকেই উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম। এরপর কঠোর নিরাপত্তায় তা সংরক্ষণ করা হয়। প্রায় এক যুগের দীর্ঘ পথচলার পর এখন প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে।

সবকিছু ঠিক থাকলে, রূপপুর কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্ত হবে একটি স্থিতিশীল ও বড় উৎস, যা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com