রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। তবে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু বোমা তৈরি সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন ঘুরছে অনেকের মনে। সহজভাবে বিষয়টি বোঝা যাক।
পারমাণবিক শক্তির মূল উপাদান ইউরেনিয়াম। এতে প্রধানত দুটি আইসোটোপ থাকে—ইউ-২৩৮ (প্রায় ৯৯%) এবং ইউ-২৩৫ (প্রায় ০.৭%)। এর মধ্যে ইউ-২৩৫-ই মূলত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
এই ইউ-২৩৫-এর পরিমাণ বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় সমৃদ্ধকরণ (enrichment)। বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে এটিকে আলাদা করে ঘনত্ব বাড়ানো হয়।
মূল পার্থক্যটি সমৃদ্ধতার মাত্রায়।
৫% থেকে ৯০% এ উন্নীত করা অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর। এই সক্ষমতা রূপপুর প্রকল্পে নেই।
এখানে ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রিত পরমাণু বিভাজন ঘটে।
এই প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় → পানি বাষ্পে পরিণত হয় → টারবাইন ঘোরে → বিদ্যুৎ তৈরি হয়।
এটি ধীর, স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে, পরমাণু বোমায় একই শক্তি মুহূর্তে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মুক্ত হয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়—যে ধরনের প্রযুক্তি এখানে নেই।
রূপপুর প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে International Atomic Energy Agency (IAEA)-এর কঠোর তত্ত্বাবধানে।
রূপপুরে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু বোমা তৈরি করা বাস্তবে সম্ভব নয়। এটি একটি বেসামরিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, যার লক্ষ্য দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানো—অস্ত্র তৈরি নয়।