রাজধানীতে একের পর এক প্রকাশ্য গুলিতে হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়ালেও আলোচিত চারটি মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো মামলার চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায়। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে। শত মানুষের উপস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুই শুটারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন জানিয়েছে, দুই লাখ টাকার বিনিময়ে তারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। তদন্তে পলাতক সন্ত্রাসী ‘ভাইগ্না রনি’র সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলেও তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এর এক সপ্তাহ পর ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পল্লবীতে দোকানের ভেতরে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে। মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় এক রিকশাচালকও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি কারওয়ান বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রায় ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং বিদেশে বসে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মামলায় প্রধান শুটারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সবশেষ গত ২৯ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে। তবে ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১২৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এই চারটি হত্যাকাণ্ড।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব হত্যার পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। তবে মূলহোতারা বিদেশে অবস্থান করায় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তদন্ত জটিল হয়ে পড়ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাগুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে। তবে জড়িত অনেকেই আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে।
এদিকে অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কারাগার থেকে বের হওয়ার পর অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। নজরদারির ঘাটতি ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার কারণেই মূলহোতারা ধরা পড়ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।