কিস্তির টাকা জোগাড় করতে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর কানের দুল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন নির্মাণশ্রমিক সাইফুল ইসলাম। পরে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয় আদালত) মোরশেদ আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সাইফুল ইসলাম (২৯)। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন পিবিআই ফেনীর পুলিশ সুপার উক্য সিং।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ফেনীর শর্শদী ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলীর ছোসনা গ্রামের আবুল খায়ের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি এনজিও ও ব্যাংকের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সাইফুলকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে অপমানিত হয়ে তিনি টাকার ব্যবস্থা করতে পরিকল্পনা করেন তার মালিকের স্ত্রীর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে বিক্রি করবেন।
ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি প্রবাসী মানিক মিয়ার স্ত্রী রিনা আক্তার (৪০) নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ দেখতে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাইফুল তার গলা চেপে ধরে কানের দুল ছিনিয়ে নেন। এ সময় শ্বাসরোধে রিনার মৃত্যু হয়।
পরে মরদেহ নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে বালুর নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। এরপর স্থানীয় বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে দুল বিক্রি করে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে চট্টগ্রামে আত্মগোপনে যান।
পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআইয়ের একটি দল চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেনীর শর্শদী ইউনিয়নের ছোসনা এলাকায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার তাকে দাফন করা হয়।
নিহত রিনা আক্তার সৌদি প্রবাসী মানিক মিয়ার স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনার সময় মানিক মিয়া সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।