মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

দাখিল পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করায়

পীরগাছায় সাংবাদিকের ওপর হামলা

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৬৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুরের পীরগাছায় দাখিল পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকল বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুছ সরকারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি মাদরাসার সুপার ও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২০ মে) রাত পৌণে ৮টার দিকে উপজেলার সোনালী ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল কুদ্দুছ সরকার দৈনিক সংবাদের পীরগাছা প্রতিনিধি এবং পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, রাতে সোনালী ব্যাংকের নিচে একটি কম্পিউটার দোকানে বসে সংবাদ লেখার কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদরাসার সুপার লুৎফর রহমান তাকে বাইরে ডাকেন। দোকানের বাইরে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, হামলায় নেতৃত্ব দেন স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদরাসার সুপার লুৎফর রহমান। এ ছাড়া দক্ষিণ ছাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দুলাল এবং রামচন্দ্র মৌজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানও হামলায় অংশ নেন।

আব্দুল কুদ্দুছ সরকারের অভিযোগ, হামলার সময় তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে মারধর ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে দৈনিক সংবাদসহ একাধিক গণমাধ্যমে ‘লাখো টাকার চুক্তিতে চলছে দাখিল পরীক্ষায় অনিয়ম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ভুয়া পরীক্ষার্থী, জাল সনদ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের সুযোগ তৈরির নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেন। কেন্দ্রগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়াকে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। এর মধ্যে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত ও কারাভোগের ঘটনাও রয়েছে।

পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, “অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করায় একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com