মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

এমপি নুরুল আমিনের ১০০ দিন, কতটা বদলালো পীরগঞ্জ ?

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ২২৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

আরএনবি অনলাইন ডেস্কঃ
নির্বাচনের আগে ছিল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, পরিবর্তনের কথা, জনসেবার অঙ্গীকার। কিন্তু ১০০ দিন পর মানুষ প্রশ্ন করছে—দৃশ্যমান অর্জন কোথায়? নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল উন্নয়নের, পরিবর্তনের, মানুষের পাশে থাকার। ভোটের সময় মানুষের প্রত্যাশাও ছিল বড়—এলাকার সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার পাবে, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির সমাধান হবে, প্রশাসনে গতি আসবে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার প্রায় ১০০ দিন পর এখন মানুষের প্রশ্ন—এই সময়টা কোথায় গেল? আর কি বা পেলো রংপুর -৬ পীরগঞ্জ আসনের সাধারণ মানুষ ।

জনগণ জানে, একজন এমপি একা সবকিছু করেন না। আবার এটাও জানে, একজন জনপ্রতিনিধির অবস্থান, অগ্রাধিকার আর উদ্যোগ অনেক কিছুর গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই ১০০ দিন পর মূল্যায়নের প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
পীরগঞ্জের মানুষ চেয়েছিল স্থানীয় সাংসদ ? চেয়েছিল হাসপাতালে চিকিৎসা সংকট কমুক। পর্যাপ্ত চিকিৎসক আসুক। রোগীরা বেডের জন্য ছোটাছুটি না করুক। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের নাগালের মধ্যে আসুক। চেয়েছিল মাদকের বিস্তার রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ।চেয়েছিল জুয়ার আসর কমুক, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকুক।চেয়েছিল কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ হোক, নাগরিক সেবার মান বাড়ুক।
অবশ্যই একজন এমপির কাজ শুধু রাস্তা বানানো নয়, সংসদীয় কার্যক্রম, নীতি নির্ধারণ, দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়—সবই দায়িত্বের অংশ। কিন্তু জনগণ শেষ পর্যন্ত মূল্যায়ন করে দৃশ্যমান ফলাফল দিয়ে।সেটার প্রতিফলন হলোই বা কতটুকু?


পীরগঞ্জের মাদারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নয়ন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন নুরুল আমিন এমপি হয়ে কি কাজ করোছে কিছুই তো দেখি না, তবে এমপির কাছে হামার চাওয়া গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলোর দিকে যেনো নজর দেয়।
রামনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন হামরা কৃষক মানুষ ভুট্টা, আলু,কচু চাষাবাদ করি ঠিকঠাক মতো সার পাই না, সময়মতো যেনো সার পাওয়া যায় এমপি যেনো সেগুলো দেখে ।
ঘোনা চতরা এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন এমপি হওয়ার পর পীরগঞ্জে কিছুই হচ্ছে না মনে হচ্ছে । বিরোধী দলের এমপি তো সরকার তেমন বরাদ্দ দেয় না তাই মনে হয় তেমন কাজ পাচ্ছে না ।
খালাশপীরের থিরারপাড়ার গ্রামের বাসিন্দা শাহাদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এমপি পীরগঞ্জে আছে কি নাই সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না । জামায়াতের এমপিকে দিয়ে কি এমন উন্নয়ন হবে পীরগঞ্জে?

পাঁচগাছি ইউনিয়নের বাসিন্দা হবিবর রহমান জানান এমপিকে একদিন দেখেছি হাসপাতাল পরিষ্কার করতে, এখন হাসপাতালে দূর্গন্ধে ঢোকা যায় না এখন তো আর কোনো খবর নাই, হাসপাতালে রোগী নিয়ে গেলেই রংপুরে পাঠিয়ে দেয় ডাক্তার তবে এমপি সাহেব যেনো হাসপাতালের দিকে নজর দেন।
বাবনপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, মাদক ও জুয়া বন্ধে এমপি ও প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে সেই সাথে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে । তাছাড়া পীরগঞ্জ থেকে এসব বন্ধ হবে না।


প্রথম ১০০ দিনে হয়তো সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষ অন্তত দিকনির্দেশনা দেখতে চায়। দেখতে চায় কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
কারণ জনগণ প্রতিশ্রুতি মনে রাখে, কিন্তু বিচার করে ফলাফল দিয়ে।১০০ দিনের শেষে তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সময়টা কি প্রস্তুতিতে গেল, নাকি পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হলো? উত্তর খুঁজবে সময়, আর মূল্যায়ন করবে মানুষ। একজন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বাস্তবে তার সময় সাধারণত কয়েকটি বড় কাজে যায়। এগুলো আইনগত দায়িত্ব আর রাজনৈতিক বাস্তবতা—দুই মিলিয়ে হয়।
১. শপথ ও সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতা
শপথ গ্রহণ সংসদ সদস্য পরিচয়পত্র, অফিসিয়াল প্রক্রিয়া প্রথম অধিবেশনে অংশগ্রহণ
২. সংসদীয় দায়িত্ব সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকা
আইন প্রণয়ন ও বিল নিয়ে আলোচনা প্রশ্নোত্তর ও জনস্বার্থের বিষয় উত্থাপন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কাজ করা (যদি সদস্য হন)
৩. নির্বাচনী এলাকার কাজ
ভোটার ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দেখা করা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিস্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রাস্তা, হাসপাতাল, শিক্ষা, পানি, অবকাঠামো নিয়ে কাজ করা
৪. সুপারিশ ও জনসংযোগমূলক কাজ
ডিও লেটার/সুপারিশপত্র দেওয়া (যেখানে আইন ও নিয়ম অনুমতি দেয়)নাগরিক সমস্যায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ সামাজিক ও সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া
৫. দলীয় কার্যক্রম দলের সভা, সাংগঠনিক কাজ রাজনৈতিক যোগাযোগ ও কর্মসূচি
৬. কেন্দ্র–এলাকা সমন্বয়
৭.মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় চাহিদার মধ্যে যোগাযোগ করা বাজেট বা প্রকল্প আনার চেষ্টা করা। তবে জনগণ সাধারণত এমপিকে মূল্যায়ন করে কয়েকটি দৃশ্যমান বিষয়ে—
হাসপাতাল, রাস্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় সমস্যা সমাধান এবং সংসদে সক্রিয়তা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এমপিরা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শপথ নিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ ২০২৬ এবং সমাপ্ত হয় ৩০ এপ্রিল ২০২৬।শুরু: ১২ মার্চ ২০২৬শেষ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬,কার্যদিবস (সংসদ বসেছে): ২৫ কার্যদিবস। অর্থাৎ, অধিবেশন ৫০ দিনের সময়জুড়ে চললেও সংসদের কার্যক্রম হয়েছে ২৫ কার্যদিবস।


এরপর রাষ্ট্রপতির আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
তাই নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ১০০ দিন নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে—সময়টা কি আনুষ্ঠানিকতায় গেল, নাকি দৃশ্যমান কাজে?
নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ১০০ দিন—যেকোনো জনপ্রতিনিধির জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়ার সময়। এই সময়েই মানুষ দেখতে চায় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, উদ্যোগের ছাপ আর নেতৃত্বের উপস্থিতি।

তাই প্রশ্ন উঠছে—এই ১০০ দিন কি শুধু শপথ, সভা, আর আনুষ্ঠানিকতায় কেটে গেল? নাকি হাসপাতাল, রাস্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জুয়া বন্ধ, জনসেবা আর উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়েছে?কারণ জনগণ সময় নয়, ফলাফল মনে রাখে। প্রথম ১০০ দিন শেষ—এখন আর প্রতিশ্রুতি নয়, মানুষ হিসাব চায়। শপথ, সভা, সৌজন্য সাক্ষাৎ আর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে জনগণ দেখতে চায় বাস্তব পরিবর্তন। হাসপাতালের সংকট কতটা কমলো, রাস্তার কাজ কতটা এগোল, মাদক নিয়ন্ত্রণে কী উদ্যোগ হলো, জনসেবায় কতটা স্বস্তি এলো—সেসব প্রশ্ন এখন সবার সামনে।
কারণ নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সময়সীমা থাকে, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশার মেয়াদ শেষ হয় না।এখন প্রশ্ন একটাই—এই ১০০ দিনে দৃশ্যমান কাজ কতটা, আর আলোচনায় থাকা ঘটনা কতটা?

এমপি হওয়ার ১০০ দিনে পীরগঞ্জ কতটা বদলালো—যা বললেন সাংসদ মাওলানা নুরুল আমিন

নির্বাচনের পর প্রথম ১০০ দিনকে সাধারণত একজন জনপ্রতিনিধির কাজের প্রাথমিক মূল্যায়নের সময় হিসেবে দেখা হয়। এই সময়ের মধ্যে পীরগঞ্জে কী পরিবর্তন এসেছে—এ বিষয়ে আরএনবি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন পীরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন।
সাংসদ বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দলমত নির্বিশেষে পীরগঞ্জের মানুষের সঙ্গে নিয়ে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কাজ করছেন। বিশেষ করে মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে এবং অভিযান ও গ্রেফতার কার্যক্রম জোরদারে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় কাঁচা রাস্তা সলিংকরণ, মসজিদ ও ঈদগাহ উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তুত করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য মাস্টার রোল প্রস্তুত করে নিজ উপস্থিতিতে বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন সাংসদ।
এছাড়া দলীয় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদান, মসজিদ, মন্দির, এতিমখানা ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সাংসদের ভাষ্য অনুযায়ী, পীরগঞ্জ পৌরসভার দীর্ঘদিনের ট্রেনেজ সমস্যার কিছু সমাধান করা হয়েছে এবং যেসব এলাকায় স্ট্রিট লাইট ছিল না সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ায় পৌরবাসীর ভোগান্তি কমেছে।
স্বাস্থ্যখাতেও নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতির সংকট নিরসন, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের খাবারের মান তদারকিতে নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে।
সড়ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাংসদ জানান, পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং ১০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ হবে। খুব শিগগিরই এসব কাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেষে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে বরাদ্দের পরিমাণের ওপর উন্নয়নের গতি অনেকটাই নির্ভর করবে—বরাদ্দ যত বেশি হবে, উন্নয়নও তত বেশি হবে

১০০ তম দিন শেষ—এখন আর অজুহাত নয়, মানুষ কাজের হিসাব চায়। ১০০ দিন যথেষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু দিকনির্দেশনা দেখানোর জন্য যথেষ্ট। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই —এমপি হবার ১০০ তম দিন শেষে আলোচনায় উন্নয়নের কাজ বেশি ছিল নাকি কাগজে কলমে পার হলো এমপি হবার শততম দিন?

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com