নেত্রকোণার মদন উপজেলায় প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে এক ছাত্রদল নেতাকে কনের বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ সাদান মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে তিনি এক নারীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সেই তথ্য গোপন রেখে সম্প্রতি কেন্দুয়া উপজেলার এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (১২ জুন) বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে প্রথম স্ত্রী দাবি করা নারী কনেপক্ষকে তাদের বিয়ের বিষয়টি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কনেপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন এবং বিয়ে আর সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন প্রথম স্ত্রীর পরিবারের বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে। এতে এক নারী আহত হয়েছেন বলে পরিবারটির দাবি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কনের বাবা জানান, পাত্রের পূর্বের বিয়ের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। বিয়ের আসরে বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযুক্তের বাবা, স্থানীয় বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, তারাও আগে ছেলের বিয়ের বিষয়টি জানতেন না। বিষয়টি আগে জানা থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) অসীম কুমার দাস জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। একজন নারী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।