বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর দেশে ফেরা দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক এবং এর ফলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা ছিল তা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আখতার হোসেন বলেন, “দেশে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন আদৌ হবে কি না—এ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নির্বাচন নিয়ে সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর করেছে।”
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও দৃশ্যমান ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে বলে মনে করছেন তারা। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব মনে করেন, তারেক রহমান এখন জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখেন, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিবিসিকে তিনি বলেন, “তারেক রহমান নির্বাসনে থেকেও বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে তিনি এখন দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা রাখেন, সেদিকেই সবার নজর থাকবে।” এদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“দীর্ঘ ১৭ বছর পর একজন রাজনৈতিক নেতার নিজ দেশে ফেরার অধিকার পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রামেরই প্রতিফলন।”
তিনি লেখেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে তারেক রহমান ও তার পরিবার রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ সময় নির্বাসনে ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতায় তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে আর রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের শিকার হতে হবে না।” তার মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান ও সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।