আগামী বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা করেছে National Citizen Party। ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক এই বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর সংস্কার এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেন Hasnat Abdullah। এ সময় দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য Dr. Atik Mujahid-সহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি। এতে জিডিপি ঘাটতি ৩ দশমিক ০৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা, টিআইএন-এনআইডি-ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংযুক্তিকরণ, সম্পদ কর চালু এবং বন্দর ডিজিটালাইজেশনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ থেকে অতিরিক্ত ৭৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দলটি।
কর কাঠামোয় সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নারী ও প্রবীণদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, ৫ হাজার কোটি টাকার শিক্ষক মানোন্নয়ন তহবিল এবং ৫ হাজার স্কুল জাতীয়করণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ৫২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু, দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি এবং ময়মনসিংহ ও বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
কৃষি খাতে সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সার ভর্তুকি, আধুনিক শস্য বিক্রয় কেন্দ্র এবং ফসল সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ‘সোলার এনার্জি সোভারেনটি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এর আওতায় সৌর পণ্যের ওপর পাঁচ বছরের জন্য শূন্য শতাংশ কর, ৬ হাজার কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি এবং ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারী ও যুব উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার নারী উদ্যোক্তা তহবিল, স্যানিটারি ন্যাপকিনে শূন্য ভ্যাট, ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার সুপারিশও করা হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপন শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা এমন কোনো কাগুজে বাজেট চাই না, যার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বাজেটের প্রতিটি টাকার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।”
ট্যাগ: এনসিপি, ছায়া বাজেট, বাজেট ২০২৬-২৭, হাসনাত আব্দুল্লাহ, কর সংস্কার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা বাজেট, স্বাস্থ্য বাজেট, বাংলাদেশ অর্থনীতি।