রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালটির পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে ভোররাতে হাসপাতালটির পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে এক থেকে চার দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং নবজাতকদের পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতিকে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবে তদন্তে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি চাইলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হাসপাতালের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির জানান, নিহত ছয় নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হয়। ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. সেখ মহিউদ্দিন।