রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য অর্থের উৎস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—এই ছয় আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী ‘ধার ও দানের’ টাকায় নির্বাচন করবেন। বিএনপির ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নিজস্ব অর্থে ভোট করবেন, বাকি তিনজন ধার ও দানের ওপর নির্ভরশীল। জামায়াতের ছয় প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই ধার ও দানের অর্থ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী–তানোর): বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন—মোট সম্পদ ২ কোটি ৬৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা; নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান—সম্পদ ৩৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা; সম্ভাব্য ব্যয় ৩৭ লাখ টাকা (নিজস্ব ৫ লাখ, ধার ৫ লাখ, দান ২৭ লাখ)।
রাজশাহী-২ (সদর): বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু—সম্পদ ৯৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা; ব্যয় ২৫ লাখ (নিজস্ব ১০, দান ১৫)। জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর—সম্পদ ২ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা; ব্যয় ২৭ লাখ (নিজস্ব ১০, দান ১৭)।
রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর): বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন—সম্পদ ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা; ব্যয় ৪০ লাখ (নিজস্ব ৩০, ধার ৫, দান ৫)। জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ—সম্পদ ৪১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা; ব্যয় ২৫ লাখ (নিজস্ব ১০, দান ১৫)।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা): বিএনপি প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান—সম্পদ ৯০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা; ব্যয় ৩১ লাখ ৯৯ হাজার (নিজস্ব ১২, দান বাকি)। জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী—সম্পদ ১ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার টাকা; ব্যয় ২৫ লাখ (পুরোটাই নিজস্ব)।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর): বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম—সম্পদ প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা; নিজস্ব ৩৫ লাখ ব্যয়। জামায়াত প্রার্থী মনজুর রহমান—সম্পদ ৫৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা; ব্যয় ২২ লাখ (নিজস্ব ৫, ধার ১০, দান ৭)।
রাজশাহী-৬ (বাঘা–চারঘাট): বিএনপি প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ—সম্পদ ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা; ব্যয় ২১ লাখ (নিজস্ব ৪, ধার ৮, দান ৯)। জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হক—সম্পদ ২৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা; ব্যয় ২৫ লাখ (নিজস্ব ৫, ধার ৬, দান ১৪)।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)–এর রাজশাহী জেলা সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, প্রার্থীদের প্রকৃত নির্বাচনী ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে। পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এখন ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানোর সুযোগ থাকায় বাস্তবতা আড়াল থেকে যাচ্ছে, যা ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে।