রংপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় হাইটেক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির একটি বড় পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ফাঁকা স্ট্যাম্প ও স্বাক্ষরিত চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সারোয়ার ইসলাম (৩০), পীরগাছা উপজেলার আল আমিন মোহাম্মদ আহাদ (৩৪), পীরগঞ্জ উপজেলার মেজবাহ হামিদুল্লাহ প্রধান (২৯) ও রাশেদুল ইসলাম রকি (২৮) এবং পাবনার চাটমোহরের জান্নাতুল ফেরদৌস বীথি (২৬)।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে ১৫টি বিশেষ জালিয়াতি ডিভাইস, পাঁচটি স্মার্টফোন, দুটি ফিচার ফোন, ১৩টি সিম কার্ড, সাতটি ব্লুটুথ এয়ারপড ও এয়ারপডের অতিরিক্ত ১৯টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কানে ডিভাইস স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ ফরসেপ, ১০০ টাকার ছয়টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, দুটি অগ্রিম স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক এবং জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা এসব ডিভাইস প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে গোপনে ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর পৌঁছে দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্য ছিল তাদের। জামানত হিসেবে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষরিত চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্প সংগ্রহ করে রাখা হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষাসহ যেকোনো ধরনের সরকারি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।