প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন মাহদী আমিন।
শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাজেট বাস্তবায়নের মূলনীতি, 3R কৌশল, সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার খাত এবং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য তিন ধরনের ‘ডিভিডেন্ড’-এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
মাহদী আমিন বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এগুলো হলো— সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার (Value for Money), বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুফল মূল্যায়ন (Return on Investment), কর্মসংস্থান সৃষ্টি (Job Creation) এবং পরিবেশ সুরক্ষা (Environmental Consideration)।
তিনি জানান, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার 3R Strategy অনুসরণ করবে। এর প্রথম ধাপ Recovery & Stabilisation, যা এক বছরের মধ্যে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়িত হবে। দ্বিতীয় ধাপ Restoration, যা আগামী এক থেকে তিন বছরের মধ্যে অর্থনীতির উত্তরণ নিশ্চিত করবে। আর তৃতীয় ধাপ Reconstruction for Acceleration, যার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১০টি প্রধান অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
মাহদী আমিন বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে সরকার তিন ধরনের লভ্যাংশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো Demographic Dividend, Longevity Dividend এবং Democratic Dividend।
তার মতে, এই নীতিমালা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।