কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের বাদাম, ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে শনিবার (২০ জুন) ভোর থেকে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। দুপুরের মধ্যে তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে এবং উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে বাদাম, মরিচ, ভুট্টা ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক কৃষক আগাম ফসল তুলে নেওয়া এবং আবাদি জমি রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তিস্তা চরের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “শুক্রবারও নদীতে তেমন পানি ছিল না। শনিবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই পানি বাড়তে শুরু করেছে। দ্রুত বাদাম তোলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সব ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। সময়মতো সতর্কবার্তা না পাওয়ায় প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।”
আরেক কৃষক ফাইজলু মিয়া বলেন, “দুই একর জমিতে মরিচ চাষ করেছি। আরও কয়েক দফা মরিচ তোলার সুযোগ ছিল। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় গাছগুলো ক্ষেত থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। অন্তত গরুর খাবার বা জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগবে। আগাম সতর্কবার্তা অনেক সময় আমাদের কাছে পৌঁছায় না।”
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী জানান, তিস্তা চরের অধিকাংশ বাদামক্ষেত ইতোমধ্যে কৃষকরা তুলে নিয়েছেন। তবে কিছু ধানের বীজতলা রয়েছে। সেখানে দুই থেকে তিনদিন পানি স্থায়ী হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাবেই তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পানি আরও বাড়লে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।”
তিস্তার পানি বৃদ্ধির খবরে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।