বাবা শব্দটি ছোট, কিন্তু এর অর্থ অসীম। ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ব, নির্ভরতা আর নিরাপত্তার এক অনন্য প্রতীক একজন বাবা। সেই বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে আজ রোববার (২১ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস।
সন্তানের জীবনে একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন তিনি।
মায়ের ভালোবাসা যেমন প্রকাশ্য ও দৃশ্যমান, বাবার ভালোবাসা অনেক সময় তেমন নয়। বাবারা সাধারণত আবেগ প্রকাশ করেন কম, কিন্তু তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম ও সংগ্রামের ভেতর লুকিয়ে থাকে পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ ও অগাধ ভালোবাসা।
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা দিবসকে স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সনোরা স্মার্ট ডড।
মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা একাই সাত সন্তানকে বড় করে তোলেন। বাবার সেই ত্যাগ ও সংগ্রাম দেখে ডডের মনে হয়, মায়েদের জন্য যদি বিশেষ দিন থাকে, তবে বাবাদের জন্যও একটি দিন থাকা উচিত।
তার উদ্যোগে ১৯১০ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়। পরে ধীরে ধীরে দিনটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বাবা রয়েছেন, যারা নিজের প্রয়োজনকে পেছনে রেখে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে জীবন কাটিয়ে দেন। অনেক বাবা নিজের নতুন পোশাক কেনেন না, কিন্তু সন্তানের বই কেনায় কার্পণ্য করেন না। নিজের চিকিৎসা পিছিয়ে দেন, কিন্তু সন্তানের পড়াশোনার খরচ ঠিকই চালিয়ে যান।
সমাজে বাবাদের আবেগ প্রকাশের সুযোগও অনেক কম। ছোটবেলা থেকেই তাদের শেখানো হয়, “পুরুষ মানুষ কাঁদে না”। ফলে নিজের কষ্ট, ভয় কিংবা মানসিক চাপ অনেক সময় তারা নিজের মধ্যেই লুকিয়ে রাখেন।
বিশ্ব বাবা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন নয়। এটি বাবার নীরব অবদানকে স্বীকার করার দিন। যে মানুষটি হয়তো কখনও বলেননি, “আমি তোমাকে ভালোবাসি”, কিন্তু প্রতিটি কাজে তা প্রমাণ করেছেন।
বিশেষ এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতার বার্তায় ভরে উঠেছে মানুষের টাইমলাইন। কেউ বাবার সংগ্রামের গল্প শেয়ার করছেন, কেউ আবার পুরোনো ছবি পোস্ট করে জানাচ্ছেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
যাদের বাবা বেঁচে আছেন, তারা হয়তো আজ কিছুটা সময় বাবার সঙ্গে কাটাতে পারেন। আর যাদের বাবা আর নেই, তাদের কাছে দিনটি স্মৃতি, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার।
বিশ্ব বাবা দিবসে তাই আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, বাবার নীরব ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামকে আরও বেশি সম্মান করা। কারণ পৃথিবীর অনেক সম্পর্ক শব্দে প্রকাশ পায়, কিন্তু বাবার ভালোবাসা প্রকাশ পায় দায়িত্বে। আর সেই দায়িত্বের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে অনন্ত ভালোবাসার গল্প।