বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ: অস্তিত্বের হুমকিতে সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বন ধ্বংস, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং চোরা শিকারের কারণে এই প্রাণী এখন নানা হুমকির মুখে।

প্রতি বছর দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এবার আয়োজন সীমিত। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের উদ্যোগে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

বাঘ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বন বিভাগের হিসাবে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ২ দশমিক ১৭টি।

সুন্দরবন রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘আমরা’-এর সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি পিটিয়ে বা শিকার করে হত্যা করা হয়েছে। ৩০টি বার্ধক্য বা অসুস্থতায় মারা গেছে এবং তিনটির মৃত্যু হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

তিনি বলেন, হরিণ শিকারি ও বনদস্যুদের তৎপরতায় বাঘের আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। অনেক সময় হরিণ শিকারের জন্য পাতা ফাঁদে বাঘও আটকা পড়ে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক সামিউল হক বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের জন্য ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এবং একটি স্ত্রী বাঘের জন্য ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার বিচরণক্ষেত্র প্রয়োজন। তবে পর্যাপ্ত শিকার থাকলে তুলনামূলক ছোট এলাকাতেও বাঘ টিকে থাকতে পারে। তাই বাঘ সংরক্ষণে হরিণ শিকার বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, শিকার ও পাচারবিরোধী আইন আরও কার্যকর করা, চোরা শিকারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ক্যামেরা ট্র্যাপ ও রেডিও কলারের মাধ্যমে নিয়মিত বাঘ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লা হারুন বলেন, সুন্দরবনে মানুষের উপস্থিতি বাড়ায় বাঘের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। তাই বাঘের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে বনে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমানো প্রয়োজন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ রক্ষায় হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৩৫ জন পাচারকারীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে।

সম্প্রতি বন সংরক্ষণবিষয়ক এক নাগরিক সংলাপে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। কয়েকটি বনদস্যু দল আত্মসমর্পণ করেছে এবং হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে বাঘের অস্তিত্ব রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com