বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সিবিইউএইর

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখা

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ জন সংবাদটি দেখেছেন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই)। শাখাটির কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া তদারকিতে ‘ক্রোয়ে ইউএই’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় শাখাটি চালু রাখতে জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বানের আবেদন জানিয়েছে জনতা ব্যাংক।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফজলুর রহমান গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে চিঠি দিয়ে সভা আয়োজনের অনুরোধ জানান। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধিদের রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইউএই শাখার মূলধন ঘাটতি পূরণে জনতা ব্যাংক গত ৮ সেপ্টেম্বর ৩০ কোটি দিরহাম পাঠায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি, শাখাটির মূলধন আরও ২০০ কোটি দিরহাম নয়, বরং ২ বিলিয়ন দিরহাম বা সমপরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের সচিব সরকারের পক্ষে সিবিইউএইর গভর্নরকে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিপত্র পাঠান।

এরপরও গত ১ অক্টোবর সিবিইউএই ‘ক্রোয়ে ইউএই’কে জনতা ব্যাংকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ব্যাংকটির ইউএই অপারেশনের প্রধান নির্বাহীর ৭ অক্টোবরের চিঠি অনুযায়ী, প্রশাসক প্রতিষ্ঠানটি ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রশাসকের ব্যয়ও জনতা ব্যাংককে বহন করতে হবে।

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফজলুর রহমান জানান, ১৯৭৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম শুরু করা জনতা ব্যাংক সেখানে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ব্যাংক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে শাখাটির প্রায় ১০ হাজার সক্রিয় আমানত হিসাবধারী, ৩ হাজার ৮০০ ঋণ ও অগ্রিম সুবিধাভোগী এবং প্রায় ১০ লাখ রেমিট্যান্স-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ রয়েছে।

তিনি বলেন, শাখাটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা শুধু ব্যাংকের জন্য নয়, গ্রাহক, রেমিট্যান্স প্রেরণকারী এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে শাখাটি চালু রাখার উপায় নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জরুরি সভার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি ব্যাংকের জন্য ইউএইতে ন্যূনতম মূলধনের শর্ত বাড়ানোর কারণে জনতা ব্যাংকের শাখায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকার প্রাথমিকভাবে অর্থ জোগানের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর আশা, শাখাটি বন্ধ হবে না।

২০২১ সালে সিবিইউএই বিদেশি ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধনের পরিমাণ ৪ কোটি দিরহাম থেকে বাড়িয়ে ৪০ কোটি দিরহাম করে। সে সময় জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখার পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০ কোটি দিরহাম। লোকসানের কারণে নতুন মূলধনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে পারেনি শাখাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ জুলাই সিবিইউএই জনতা ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাব থেকে ডেবিট লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এক সপ্তাহ পর, ১৫ জুলাই প্রশাসক নিয়োগ এবং তিন বছরের মধ্যে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা না মানলে রিজার্ভ হিসাব স্থায়ীভাবে জব্দ করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসক নিয়োগের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।

‘ক্রোয়ে ইউএই’ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ক্রোয়ে গ্লোবালের সদস্য প্রতিষ্ঠান। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিষ্ঠানটি অডিট, কর, পরামর্শ ও উপদেষ্টা সেবা দিয়ে থাকে। ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম রয়েছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের (ডিআইএফসি) নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com