মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

জ্বালানি খাতে ১২ দফা সুপারিশ, চার মাসেও বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নেই

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৯ জন সংবাদটি দেখেছেন

জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত তিন মাসের চাহিদার সমপরিমাণ করা, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থায় ডিজিটাল নজরদারি, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। গত ৭ জুন সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সুপারিশগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব স্পষ্ট নয়।

এ সময়ে জ্বালানি মজুত বাড়ানো, বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ ও দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সরকার। তবে কোন সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটির কাজ চলছে আর কোনটি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে—তা নিয়ে সমন্বিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষ কমিটির সুপারিশের মধ্যে ছিল জ্বালানি তেলের সংরক্ষণ সক্ষমতা তিন মাসের চাহিদার সমপরিমাণে উন্নীত করা, সরবরাহ ব্যবস্থায় অটোমেশন চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধ, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) ও ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিভিন্ন জ্বালানির সমন্বিত ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাবও ছিল।

জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিকল্প উৎস থেকে আমদানি এবং বেসরকারি সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণের উদ্যোগ চলছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মো. নাজিবুর রহমান মোমেনের অভিযোগ, বিরোধী দল সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলেও সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বিশেষ কমিটির অন্যতম সুপারিশ ছিল জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত তিন মাসের চাহিদার সমপরিমাণে উন্নীত করা। গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, তখন দেশের জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ৬০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ ছিল। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭১ দিন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে নতুন ডিপো নির্মাণ, অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা চলছে।

তেলের সংকটের কারণ অনুসন্ধানে বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশে তেল থাকার পরও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে চিফ হুইপ বলেন, দাম বাড়ানোর পর তেলের সংকট কেটে যায়। তাঁর মতে, এর অর্থ কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুত ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার ৫১২ টন।

জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করেছিল বিশেষ কমিটি। এর অংশ হিসেবে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বিপিসি।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার নির্ধারিত শর্তে বেসরকারি সরবরাহকারীদেরও জ্বালানি তেল সরবরাহের সুযোগ দিয়েছে।

তবে বিকল্প উৎস থেকে কত পরিমাণ তেল আমদানির চুক্তি হয়েছে, বেসরকারি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে কি না এবং নতুন ব্যবস্থায় সরবরাহ কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও সময় কমাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ ছিল বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে।

এসপিএম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান পিটি পারটামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইনটি প্রাথমিক পর্যায়ে নকশাগত সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে পারে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্পের বিলম্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের নভেম্বর।

ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুপারিশ করেছিল বিশেষ কমিটি। বিরোধী দলের প্রস্তাবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণের লক্ষ্যও রয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের অগ্রগতি, উৎপাদন, প্রকল্প ব্যয় এবং সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানির তথ্য চাওয়া হয়।

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য থাকলেও বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আগের ৩০ দিনে যুক্ত হয়েছিল মাত্র ৬০ মেগাওয়াট।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, সরকারি ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ সরকার কিনে নেবে বলেও জানান তিনি। তাঁর আশা, এক বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে; সর্বোচ্চ দেড় বছর লাগতে পারে।

তবে কত মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়বে, কত ভবনে সৌর প্যানেল বসানো হবে এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ও গ্রিড সংযোগের ব্যবস্থা কী হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জানানো হয়নি।

আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল বিশেষ কমিটি। গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার, নতুন কূপ খনন, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে পাইপলাইন সংযোগ এবং স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদারের প্রস্তাবও ছিল।

গত ২ সেপ্টেম্বর সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে দৈনিক ৮ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, বাপেক্সের খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে পাইপলাইনে দৈনিক সাত কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধ এবং সিস্টেম লস কমানোর সুপারিশ করেছিল বিশেষ কমিটি। তবে কতটি ডিপোতে অটোমেশন চালু হয়েছে এবং সিস্টেম লস কমাতে কী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সমন্বিত অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ২ সেপ্টেম্বর সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিভিত্তিক লক্ষ্য, অর্জন ও ব্যর্থতার কারণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিপিসির পক্ষ থেকেও সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিপোতে অটোমেশন বাড়ানো এবং মজুত সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে বিপিসির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তহবিলের কাঠামো তখনো ধারণাগত পর্যায়ে ছিল।

জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত।

দলটির প্রস্তাবনায় ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা করে বছরে ৭৫৬ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং পর্যালোচনাধীন আরও ৫১টি কেন্দ্রের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে দলটি।

প্রস্তাবনায় সৌরবিদ্যুতের উচ্চ ট্যারিফ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির হুইলিং চার্জের পার্থক্য, ব্যাটারি স্টোরেজের ব্যয় এবং গ্রিড অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার বিষয়ও রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে গ্রিড সংযোগ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ কেনার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

পরবর্তী বৈঠকের আগে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর লিখিত জবাব চেয়েছে জামায়াত। পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বছরভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা এবং হুইলিং চার্জ ও ব্যাটারি স্টোরেজের ট্যারিফ নিয়ে পৃথক বৈঠকের দাবিও জানিয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মো. নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, জ্বালানি ও সার সংকটের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধী দল সংসদে আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ নিতে চেয়েছে। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলো বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সংসদে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিরোধী দলকে জনগণের কাছে যেতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মোমেন বলেন, বিরোধী দল হিসেবে যতটুকু সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তা কাজে লাগিয়ে জনগণের কথা তুলে ধরা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে সরকারের পদক্ষেপের কারণে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য।

নাজিবুর রহমান মোমেন জানান, জ্বালানি বিষয়ে ১২ দফা প্রস্তাব নিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিরোধী দলের দেওয়া ১০টি বিষয়ভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবে ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পুনর্বিবেচনা, সৌরবিদ্যুতের উচ্চ ট্যারিফ পর্যালোচনা, হুইলিং চার্জের বৈষম্য দূর করা, গ্রিড অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেনার জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানির মিশ্রণ ও সিস্টেম লস কমানোর বছরভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশের দাবিও রয়েছে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের ১০টি সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২৮ অক্টোবরের বৈঠকটি কোন কমিটির, সেখানে কোন প্রস্তাব পর্যালোচনা হবে এবং আগের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গত ১০ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। সৌরবিদ্যুতের অগ্রগতি, জ্বালানি মজুত, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, ক্যাপাসিটি চার্জ, প্রকল্প ব্যয় এবং ২০৩০ সালের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়।

জ্বালানি খাতে সরবরাহ নিরাপত্তা ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে একাধিক উদ্যোগের কথা জানানো হলেও সেগুলোর বাস্তব অগ্রগতি, নির্ধারিত সময়সীমা এবং অর্জনের পরিমাপযোগ্য হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে সামনে আসেনি। ফলে বিশেষ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়নে সমন্বিত তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com