মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

রংপুরের পীরগঞ্জে সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বিএনপিআইসির ১৬ জন সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ডিলারশিপ পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ভাতিজা, স্থানীয় বিএনপি নেতার স্ত্রী, ভগ্নিপতি, ভাই ভাতিজা। স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়কে সারের গোডাউন দেখিয়েছেন এক বিএনপি নেতা।

যেসব বিএনপি নেতা সারের ডিলারশিপ নিয়েছেন তারা কেউ কোনো দিনই সার ব্যবসা করেন নাই। প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের একজনকেও ডিলারশিপ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতারা গোপনে তালিকা করে সারের ডিলারশিপ নেয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে নেতা কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কৃষি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভার ১৬ জন বিএনপির পদধারী নেতা ও তাদের স্ত্রী এবং স্বজন- যারা ডিলারশিপ পেয়েছেন তারা কেউ সার ব্যবসায়ী নন। তাদের নিজস্ব সারের গোডাউন কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।

যারা পেয়েছেন ডিলারশিপ
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাউজুল হাসান সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন মেসার্স রাজিব ট্রেডার্স নামে। ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন তার চাচাতো ভাই তৌহিদুল ইসলামের নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন মেসার্স তৌহিদুল ট্রেডার্স নামে। বড়দরগাহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও উপজেলা বিএনপির পরিচালক কামির সভাপতি মকবুল আলম সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন মেসার্স আজাদ ট্রেডার্স নামে।

কুমেদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন রনি ট্রেডার্স নামে। মদনখালী ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলমের ভাতিজা মো. মাহফুজুর আলম। তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স।

টুকুরিয়া ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলমের ভাতিজা মো. মাহফুজুর আলম। পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি চৌধুরী পলাশের স্ত্রী মোছা. ফাহিমা আক্তার শাম্মা। তিনি কোনো দিন সারের ব্যবসায়ী ছিলেন না, তার কোনো সারের ব্যবসা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের স্ত্রী মোছা. শাহানা খানম, মনজুয়ারা বাচ্চু ট্রেডার্স নামে। শানেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নুর মোহাম্মদ খান সুজন শানের হাট ইউনিয়নের ডিলারশিপ পেয়েছেন মেসার্স ছবি ট্রেডার্স নামে।

মিঠিপুর ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন মিঠিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রায়হান প্রধানের স্ত্রী দৌলত নাহার বেগম মেসার্স দিপ্ত ট্রেডার্স নামে। রামনাথপুর ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান, মেসার্স রাফিক ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানের নামে। মেসার্স মোনারুল ট্রেডার্স নামে লাইসেন্স পেয়েছেন নুর মোহাম্মদ মন্ডল, তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

কাবিলপুর ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. রতনা আক্তার, প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স জারিফ ট্রেডার্স। পীরগঞ্জ পৌর এলাকার সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল আজাদ মন্ডলের স্ত্রী মোছা. লাকী বেগম, মেসার্স অলিন ট্রেডার্স নামে।

পাঁচগাছি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক একরামুল হক ডিলারশিপ পেয়েছেন মেসার্স আজমাইন ট্রেডার্স নামে। তিনি পাঁচগাছি ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়কে সারের গোডাউন হিসেবে দেখিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় কার্যালয়টি অস্থায়ী তাই এটিকে গোডাউন হিসেবে দেখিয়েছেন।

কী বললেন কর্মকর্তারা

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বদলি হয়ে চলে এসেছি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবো না।’

পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদনবী পলাশের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আর পীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল আজাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ ছিল।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com