রংপুর বিভাগীয় ও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অফিস সময় মেনে উপস্থিত না হওয়া, দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত অফিস সময় পার হলেও কার্যালয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত ছিলেন।
বুধবার সকাল ৯টায় রংপুর নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ায় অবস্থিত বিভাগীয় ও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের মূল ফটক ও বিভিন্ন কক্ষ তালাবদ্ধ। সরকারি অফিস শুরুর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সকাল ৯টা ৮ মিনিটে দুইজন অফিস সহকারী কার্যালয়ে এসে বিভিন্ন কক্ষের তালা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। এরপর সকাল ৯টা ১২ মিনিটে স্যাম্পল পরীক্ষক জাকারিয়া হোসেন অফিসে আসেন। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি অন্যান্য কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। দেরিতে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তিনি সাধারণত সময়মতোই অফিসে আসেন এবং সেদিন ব্যতিক্রম হয়েছে।
এরপর সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম কার্যালয়ে পৌঁছান। নির্ধারিত সময়ের ৩১ মিনিট পর অফিসে আসার কারণ হিসেবে তিনি রাস্তার সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন।
সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে জেলা সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান অফিসে আসেন। তিনিও দেরিতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বিভাগীয় পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম জানান, পরিচালক গাইবান্ধায় রয়েছেন। তবে তিনি কী কাজে সেখানে গেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশী অভিযোগ করেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানাশোনা খুবই সীমিত। তাদের দাবি, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময়েও অধিদপ্তরের কার্যকর তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না। বিশেষ করে রংপুরে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় পৌঁছালেও বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তবে অফিসে কর্মকর্তাদের দেরিতে উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।