নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেললাইনের পাশের জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় হৃদয় ইসলাম (২১) নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শহরের ইসলামবাগ চিনি মসজিদ এলাকায় রেলওয়ে কারখানার সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন রেললাইনের পাশের জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
হৃদয় ইসলাম সৈয়দপুর উপজেলার চওড়া বাগিচাপাড়া এলাকার মহুবার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একটি হোটেলের রুটি তৈরির কারিগর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে কয়েকজন হাঁটতে বের হয়ে রেললাইনের পাশের ঝোপে হৃদয়কে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে হৃদয়ের পকেটে থাকা একটি কাগজে লেখা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেখানে আসেন তার শাশুড়ি মিনা বেগম।
তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। গত শুক্রবার হৃদয় পরিচিত দুই ব্যক্তি মমতাজুল ও জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কাজের উদ্দেশ্যে নাটোরে যান। এরপর কীভাবে তিনি সৈয়দপুরে এলেন এবং কারা তাকে এভাবে জখম করেছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
সৈয়দপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাইয়ুল কবির রাজীব জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে হৃদয়ের গলায় আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া তার হাত ও পায়েও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।