মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

প্রস্রাব বা বায়ুর বেগ চেপে রেখে নামাজ পড়া কি জায়েজ? যা বলা হয়েছে হাদিসে

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯১ জন সংবাদটি দেখেছেন

নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। একজন মুসলমানের জন্য নির্ধারিত সময়ে মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা আবশ্যক। কিন্তু অনেক সময় প্রস্রাব-পায়খানা কিংবা বায়ুর চাপ থাকা অবস্থায় কেউ কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে যান। বিশেষ করে নতুন করে অজু করার ঝামেলা এড়াতে এমনটি করেন অনেকে। প্রশ্ন হলো, শরিয়তের দৃষ্টিতে এ অবস্থায় নামাজ আদায় করা কতটা সঠিক?

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম কর এবং ফজরের নামাজ (কায়েম কর)। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৭৮)

আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত: ৪৫)

নামাজে খুশু-খুজু বা একাগ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্রাব-পায়খানা কিংবা বায়ুর তীব্র চাপ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ নষ্ট হয়। এ কারণে হাদিসে প্রাকৃতিক প্রয়োজনের চাপ নিয়ে নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যখন নামাজে দাঁড়িয়ে যাও এবং তোমাদের কারও প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন দেখা দেয়, সে যেন প্রথমে প্রয়োজন সেরে নেয়।’ (তিরমিজি: ১৪২)

হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসেও প্রস্রাব-পায়খানার চাপ নিয়ে নামাজ না পড়ার নির্দেশনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া হজরত নাফে (রহ.)-কে এমন ব্যক্তির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যিনি পেটে বায়ুর চাপ অনুভব করছেন। তিনি বলেন, বায়ুর চাপ অনুভব করা অবস্থায় যেন সে নামাজ না পড়ে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৮০২২)

ফিকাহবিদরা যা বলেছেন

এসব হাদিস ও আসারের ভিত্তিতে ফিকাহবিদরা বলেছেন, প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর তীব্র চাপ নিয়ে নামাজে দাঁড়ানো অনুচিত। হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী এমন অবস্থায় নামাজ আদায়কে মাকরুহ তাহরিমি বলা হয়েছে। কারণ শারীরিক অস্বস্তির কারণে নামাজের একাগ্রতা ও স্থিরতা ব্যাহত হয়।

নামাজ শুরু করার সময় কোনো চাপ না থাকলেও নামাজের মধ্যে যদি প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয় এবং নামাজের পর্যাপ্ত সময় বাকি থাকে, তাহলে প্রয়োজন সেরে অজু করে পুনরায় স্বস্তির সঙ্গে নামাজ আদায় করা উচিত।

নামাজ কি আদায় হবে?

পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর তীব্র চাপ নিয়ে নামাজ আদায় করেন, তাহলে হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী কাজটি মাকরুহ হলেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতিতে নামাজ পড়ার অভ্যাস করা উচিত নয়।

আর যদি নামাজের ওয়াক্ত এতটাই কম থাকে যে প্রয়োজন সারতে গেলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে নামাজ কাজা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ওয়াক্তের মধ্যেই নামাজ আদায়ের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।

সুতরাং নামাজের পর্যাপ্ত সময় থাকলে প্রস্রাব-পায়খানা বা বায়ুর চাপ চেপে না রেখে প্রথমে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে নেওয়াই উত্তম। এরপর প্রয়োজনীয় পবিত্রতা অর্জন ও অজু করে শান্ত ও একাগ্র মনে নামাজ আদায় করা উচিত। এতে শারীরিক অস্বস্তি যেমন থাকবে না, তেমনি নামাজে মনোযোগ ধরে রাখাও সহজ হবে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com