কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রায় ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিন অর্থবছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে পাঁচ গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষ এবং তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে ৪ দশমিক ২৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কালভার্টটি নির্মিত হলে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামের সঙ্গে আরও চারটি গ্রামের যোগাযোগ সহজ হতো।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় রাজারহাট উপজেলায় ৯টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ঠিকাদার মো. নূর আলম মিয়ার সঙ্গে ২ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৮ টাকায় চুক্তি সম্পাদিত হয়।
২০২৪ সালের ১৪ মে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও গতিয়াশামের কালভার্টটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, “এটি আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ। কৃষিকাজের জন্য প্রতিদিন রাস্তার ওপারে যেতে হয়। জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।”
আজিজুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এবং পাঁচ গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষ চলাচল করে। কালভার্ট না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঠিকাদার অস্থায়ী সাঁকো বা বিকল্প রাস্তা না দেওয়ায় গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন।”
স্থানীয় দিনমজুর আলম মিয়া ও ফজলু মিয়া জানান, কালভার্ট না থাকায় ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সাব-ঠিকাদার আমজাদ হোসেন বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ঠিকাদার একসঙ্গে অনেক কাজ পেয়েছেন। এ কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
প্রকল্পের ঠিকাদার নূর আলম মিয়া বলেন, “ওই এলাকায় বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যা, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তবে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত কালভার্ট নির্মাণ শেষ করে জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।