বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড আল-আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত জুনে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতির টুর্নামেন্টে রেফারির সঙ্গে অসদাচরণ ও মাঠের সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় বাংলাদেশের মিডফিল্ডার মিরাজুল ইসলামকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ফিফার এই সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খেয়েছেন আল-আমিন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বর্তমান সূচি বিবেচনায় এই নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় দুই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হতে পারে তাকে।
বাংলাদেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে এত দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার ঘটনা বিরল। সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে রেফারিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বাংলাদেশ দলের তৎকালীন অধিনায়ক ইলিয়াস হোসেনকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
আল-আমিনের ক্যারিয়ারে এটি প্রথম নিষেধাজ্ঞা নয়। ২০২০-২১ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে খেলার সময় ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে তাকেও এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ ঘটে আলোচিত এই ঘটনা। গত ৭ জুন স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের অলিম্পিক দলের ম্যাচে যোগ করা সময়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচের শেষ দিকে বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের খেলোয়াড় হাসান ইনাজ। এ ঘটনায় মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন। সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানান বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার সময় সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। পরে মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করায় আল-আমিনকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তিনি রেফারিকে ধাক্কা দেন। এর জেরেই ফিফা তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
শেষ পর্যন্ত উত্তপ্ত সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের আচরণই বেশি আলোচনায় আসে এবং তারই পরিণতিতে এসেছে ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা।
সূত্র: কালবেলা