বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি

‘দিদি, আমাদের ফেলে কোথায় গেলে?’

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩৬ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোক ও হতবাক স্বজনরা। পরিচিতজনদের ভাষ্য, এমন মর্মান্তিক পরিণতি তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী বোন, দুলাভাই এবং ভাগনে-ভাগনির মরদেহের সামনে বারবার ভেঙে পড়েন।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দিদি, আমাদের ছেড়ে কোথায় চলে গেলে? এখন আমাকে কে ডাকবে? প্রিয়ম আর কখনও ডাকবে না?” স্বজনদের সান্ত্বনার চেষ্টাও তখন তার শোক কমাতে পারেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে শনিবার রাতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে চারজনের মরদেহ দেখতে পায়। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়িতে এবং ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে।

জানা গেছে, গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। পাশাপাশি তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সম্প্রতি কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং ঘরের বিভিন্ন স্থানে তছনছের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী রাখার স্থানও ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে লুটপাট বা ডাকাতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার তদন্তে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র‍্যাবসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com