রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন হওয়ায় তাঁকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আরপিএমপি কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদানের লক্ষ্যে আরপিএমপির পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে সিটিএসবি’র উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে সদর দপ্তর ও প্রশাসনের উপ-পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) সনাতন চক্রবর্তীসহ আরপিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী বক্তব্যে মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ কর্মজীবনে সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। আইন ও বিধি-বিধানের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি অধস্তন সদস্যদের কল্যাণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত আইন, গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবং আধুনিক পুলিশিং সম্পর্কে অধ্যয়ন করার আহ্বান জানান।
চাঞ্চল্যকর মাছুয়াপাড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। অপরাধ দমন ও তদন্তে পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।
জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরপিএমপির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় ও টিমওয়ার্ক আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
নতুন দায়িত্বে সফলতা কামনা করে সহকর্মীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সঙ্গে কর্মকালীন সময়ে কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।