প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। দ্রুত এই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রকে’ চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে এসব কথা বলেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, ‘প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে।’
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজট ছিল। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সেলিমের দাবি, দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে অনেক প্রবাসী তাঁদের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেছেন।
এই জনদুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ভার্চ্যুয়াল সভা করেন বলে জানান তিনি।
ওই সভায় উপস্থিত থাকার কথা জানিয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘হুইপ মহোদয়ের পাশে বসে পুরো মিটিংটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও চরম হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করলাম—এত বড় একটি ঘটনা ও মানুষের অসীম দুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা ছিল না।’
সেলিমের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল বলে হুইপ মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে সেলিম লেখেন, সংবাদপত্র, টেলিভিশন স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার করা হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন। এতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য।
তিনি লেখেন, ‘জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’
এর আগেও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে সরকারকে অসহযোগিতা করার অভিযোগ তুলেছিলেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। গত আগস্টে আরেক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনে আগের সরকারের সহযোগীরা এখনো সক্রিয় রয়েছেন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। সরকারকে সতর্ক করতেই আমি বারবার বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরছি। এখন সরকারের উচিত এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা।’
শাহাদাত হোসেন সেলিম এর আগে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।