রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টোপথে ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পতাকাবাহী গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। দুই মামলায় মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৮ মিনিটের দিকে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মন্ত্রী নিজেও গাড়িতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রীর পতাকাবাহী ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়িটি সার্কিট হাউজ রোডে উল্টোপথ দিয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে গাড়িটি বিপরীত লেনে চলায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা সেটি থামিয়ে দেন।
পরে গাড়িচালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিপরীত লেনে গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। প্রতিটি মামলায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ঘটনার সময় গাড়ির ভেতরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার্জেন্ট সিফাত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মন্ত্রীর গাড়িটি লেন লঙ্ঘন করে স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তখন দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা গাড়িটি আটক করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।’
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে আইন মেনে যানজটের মধ্যেও ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে সচিবালয়ে যাতায়াত করছেন। সেখানে কোনো মন্ত্রী বা সচিবের গাড়ির উল্টোপথে যাওয়ার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং কাম্য নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা করার ঘটনা এটিই প্রথম। অতীতে যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মন্ত্রীদের গাড়ি উল্টোপথে চলার খবর গণমাধ্যমে এলেও এভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তাদের জানা নেই।