কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের নামে পরিচালিত অভিযানের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে আহ্বায়ক এবং রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযানের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে রৌমারী উপজেলার সবুজপাড়া এলাকায় দৈনিক মানবজমিনের উপজেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান। অভিযানে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। তবে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কোনো ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়নি।
সাংবাদিক সাজুর অভিযোগ, নামজারি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে প্রশ্ন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনো নোটিশ বা শুনানি ছাড়াই একটি নামজারি বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার অসন্তুষ্ট হন এবং পরদিন তার বাড়িতে অভিযান চালান।
স্থানীয় সাংবাদিকরাও অভিযোগ করেছেন, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং তল্লাশির সময় বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হাসান বলেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। পরে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ বলেন, তদন্তে দেখা হবে অভিযানের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল কি না। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল এবং এরই মধ্যে তাকে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমানকে সম্প্রতি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সাংবাদিক মহলের অভিযোগ, কর্মস্থল ছাড়ার আগে প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব থেকেই তিনি ওই অভিযান পরিচালনা করেছেন। তবে বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।