বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও ব্রহ্মপুত্রে চর-ভাঙন, খনন প্রকল্পের সুফল নিয়ে প্রশ্ন

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

পুরোনো ব্রহ্মপুত্রের নাব্য ফেরাতে ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকার খনন প্রকল্প নেওয়া হলেও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পর দৃশ্যমান সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। শুষ্ক মৌসুমে নদে চর জেগে উঠছে, আবার বর্ষায় দেখা দিচ্ছে তীব্র ভাঙন। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রকল্প বন্ধ করে সম্ভাব্য অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তও দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে এর সফলতা বা ব্যর্থতা মূল্যায়ন করা যৌক্তিক নয়। উৎসমুখের খনন শেষ হলে পানির প্রবাহ বাড়বে এবং তখন প্রকল্পের সুফল দৃশ্যমান হবে।

ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার তিব্বত অংশের কৈলাস শৃঙ্গের কাছাকাছি জিমা ইয়ংজং হিমবাহ এলাকায়। ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের পর যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র তার প্রমত্ত রূপ হারাতে থাকে। সময়ের সঙ্গে নদের নাব্য সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। শুষ্ক মৌসুমে অনেক এলাকায় পানি কমে চর জেগে ওঠে, আর বর্ষায় দেখা দেয় ভাঙন।

নাব্য সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএ গাইবান্ধা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জের ২২৭ কিলোমিটার নৌপথ খননের প্রকল্প হাতে নেয়। ২০১৯ সালের জুনে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০০ মিটার বা ৩০০ ফুট প্রশস্ত এবং তিন মিটার বা প্রায় ১০ ফুট গভীর নৌপথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পুরোনো ব্রহ্মপুত্রকে দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথে উন্নীত করে সারা বছর নৌযান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে সীমান্ত থেকে জামালপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার এবং পরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল থেকে গাইবান্ধার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের সন্ন্যাসীর চর পর্যন্ত আরও ৩৭ কিলোমিটার খনন করা হবে। তিন স্তরে পরিকল্পিত খননকাজের প্রথম স্তরের কাজ বর্তমানে চলছে।

প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থায় চলতি বর্ষায় দেওয়ানগঞ্জের খলাবাড়ী মণ্ডল বাজার ও ইসলামপুরের গাইবান্ধা এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে জামালপুর ও গাইবান্ধা অংশে প্রকল্পের অর্থে ১১টি কাজে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মণ্ডল বাজারে চারটি তীররক্ষা কাজ শেষ হওয়ার পর নদীর পানি বাড়তেই বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়ে। ইসলামপুরের গাইবান্ধা এলাকাতেও বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

মণ্ডল বাজার এলাকার আব্দুল হক বলেন, শুষ্ক মৌসুমে যদি চর জেগে ওঠে এবং বর্ষায় ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে এত অর্থ ব্যয় করে খননের সুফল কোথায়—এ প্রশ্ন স্থানীয় মানুষের।

কলেজছাত্র রাকিবও প্রকল্পের দৃশ্যমান সুফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রশ্ন, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও সাধারণ মানুষ কেন এর সুফল দেখতে পাচ্ছে না।

চর যথার্থপুরের কৃষক স্বপন মিয়া অভিযোগ করেন, নদী খননের দৃশ্যমান ফল হিসেবে তিনি মূলত বালু উত্তোলনই দেখছেন। তাঁর দাবি, উত্তোলিত বালু কম দামে কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করে একটি পক্ষ লাভবান হচ্ছে।

নরুন্দি বাজারের ব্যবসায়ী কামাল বলেন, প্রকল্পটি যদি মানুষের কাজে না আসে, তাহলে এ বিপুল অর্থ অন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা উচিত। আর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে সেটি এমনভাবে করা দরকার, যাতে মানুষ বাস্তব সুফল পায়।

তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জামালপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটি বন্ধ এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির তদন্ত দাবি করেছেন।

তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দৃশ্যমান সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। খনন থেকে পাওয়া বালু বিক্রি ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের তেমন কোনো সুফল দৃশ্যমান হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান জাহাঙ্গীর সেলিম।

তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা।

বিআইডব্লিউটিএর জামালপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ মজুমদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন। উৎসমুখ থেকে ৭০ কিলোমিটার খননের দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মহসিন মিয়া বলেন, উৎসমুখের খনন সফলভাবে শেষ হলে পুরোনো ব্রহ্মপুত্রে পানির প্রবাহ বাড়বে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এর সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

প্রকল্পে অনিয়ম বা স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, কাজ এখনো চলমান। তাই পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে এর সফলতা মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না।

একদিকে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও শুষ্ক মৌসুমে চর ও বর্ষায় ভাঙনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে; অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ বলছে, প্রকল্পের মূল সুফল পেতে অপেক্ষা করতে হবে পুরো কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত। ফলে ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত পুরোনো ব্রহ্মপুত্রের নাব্য ফিরিয়ে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com