রংপুরের কাউনিয়ায় এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সালিসের কথা বলে গোপনে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে শরীর টিপে দেওয়ার কথা বলে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এরপর গতকাল রাতে ওই শিক্ষার্থীকে আবারও কক্ষে ডেকে একই ধরনের চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে স্বজনেরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। পরে সালিস শুরুর আগেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওই শিক্ষক তাকে প্রায়ই রাতে ডেকে নিয়ে শরীর টিপে দেওয়ার কথা বলে যৌন নিপীড়ন করতেন। এতে রাজি না হলে রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ করেছে সে।
কাউনিয়া থানার পরিদর্শক শিহাব উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
তবে আগের ঘটনাগুলোর অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমান ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।