এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে খাতা মূল্যায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যেসব পরীক্ষক খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেননি, তাঁদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সময়মতো বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষা খাত দুর্নীতিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট দূর করার প্রতিশ্রুতিও দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর সেশনজট থাকবে না। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে যেন বেকার না থাকে, সে জন্য কারিকুলাম যুগোপযোগী করা, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কোর্স চালু, শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ল কলেজগুলোর বাড়তি ফি আদায়ের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফরম পূরণের ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপিয়ে এ ধরনের অর্থ আদায় চলতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। এবার ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথিরা তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।