চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের ৬৪১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নারী ধর্ষণের ঘটনা ৪০০টি এবং শিশু ধর্ষণের ঘটনা ২৪১টি। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা ৩৭টি ও ধর্ষণচেষ্টার ১৫২টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংলাপে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ৬০৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪১টি ধর্ষণ এবং ২১৩টি শিশু হত্যার ঘটনা রয়েছে। এছাড়া নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের ১৯১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। মানব পাচারের ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। আর ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিচারাধীন বা তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২৮৪টি।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা থাকলেও সমন্বয়ের অভাব, দীর্ঘসূত্রতা এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে ভুক্তভোগীরা কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা সেবার বিষয়ে মানুষের জানাশোনা কম।
তাহমিনা রহমান বলেন, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের মতো সেবাগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় ভুক্তভোগীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, ফলে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়।
সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় আইনি সহায়তা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনি সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ জন এবং দেশের ৬৪ জেলা আইনি সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন।
অংশীজনরা নারী, শিশু, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা আরও সহজলভ্য, সমন্বিত ও কার্যকর করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।