নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আরও দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ ও চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলাও হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ করছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুর কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
সম্প্রতি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এর আগে রোববার রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের বিষয়টি দেখতে পেয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এলজিইডির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সেতুর অন্য কোনো অংশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিমধ্যে একজন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ঠিকাদার নয়, নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।