পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চুরির অভিযোগ তুলে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ও তার মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান (চুন্নু) ও তাঁর ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হাফিজুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় দেড় বছর আগে তার বাবা মারা যান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি বন্ধকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শিশুটির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে মা ও ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ও ছেলে দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের যেসব জায়গায় আঘাত লেগেছে, সেখানে কালো দাগ হয়ে গেছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার হাসপাতালে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, মৃত্যুর আগে তাঁর স্বামী আবদুল হাইয়ের জমি বন্ধক রেখে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে ওই লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ তাঁদের কাছে ছিল না।
স্বামীর মৃত্যুর পর জমি বন্ধকের কাগজ সংগ্রহের জন্য তিনি কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। এ নিয়ে হাফিজুর রহমান ও তাঁর ভাই তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, শুক্রবার হাফিজুর রহমান ও আবদুল হাই তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে তাঁদের বাড়িতে ডেকে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পর শিশুটির বিরুদ্ধে ঘর থেকে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ তোলা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর ছেলেকে মারধর শুরু করা হয়। আবদুল হাইসহ বাড়ির অন্য সদস্যরাও এতে অংশ নেন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান শিশুটির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘ওই ছেলে চোর। সে এলাকার সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। ছেলেটি চুরি করার পর আমি পুলিশকে বলেছি। তারা বলেছে, “দুই একটা পিডান-পুডান দিয়ে ছেড়ে দেন।”’
হাফিজুর রহমান আরও দাবি করেন, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।
অন্যদিকে জমি বন্ধক রেখে এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর ছোট ভাই আবদুল হাই। মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনিও হাফিজুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে কথা বলেন।
তবে মারধরের বিষয়ে পুলিশকে জানানোর যে দাবি বিএনপি নেতা করেছেন, সে বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘এ রকম কোনো বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’
এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হাফিজুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান (টোটন) স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ও তার মাকে নির্যাতনের অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত ভিডিও দলটির নজরে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।