ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলার ৬৪ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলার ১১ সেন্টে।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। দেশটির দাবি, কাতারের মধ্যস্থতায় সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি সপ্তাহে আরও আলোচনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলে।
এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও উচ্চমাত্রায় রয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড উচ্চ ডিজেল মূল্য নিয়ন্ত্রণে ডিজেল রফতানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে—এমন জল্পনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপসহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রফতানি সেপ্টেম্বর মাসে দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রফতানি বাড়ানোর ফলে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত নিরসন না হলে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।