দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫৬২ থেকে ৭৭৭ জন মানুষ হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন। একই সময়ে নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ২ হাজার ৭২০ জন। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার মানুষ কোনো না কোনো ধরনের হৃদরোগে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সচল ক্যাথল্যাব ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সংকটে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’ বা ‘হৃৎস্পন্দনকে গুরুত্ব দিন’।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, দেশে বছরে দুই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় হৃদরোগে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসান বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী হৃদরোগ। গত তিন দশকে হৃদরোগ চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এর বেশিরভাগই ঢাকাকেন্দ্রিক। অথচ অধিকাংশ রোগী রাজধানীর বাইরে বসবাস করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি গ্রহণ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ।
এদিকে দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ শূন্য থাকায় এফসিপিএস, ডিপ্লোমাসহ উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ক্যাথল্যাব দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। বগুড়া মেডিকেল কলেজের দুটি ক্যাথল্যাবের একটি বন্ধ। চট্টগ্রাম ও রংপুরেও ক্যাথল্যাব সেবায় অনিয়মিততা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বড় হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসা দিয়ে হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের সহজলভ্যতা, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি, সচল ক্যাথল্যাব এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি মিনিটে আটজন মানুষ হৃদরোগে মারা যান। এসব মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঘটে ৭০ বছর বয়সের আগেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানোর মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।