যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের পাশাপাশি এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এ বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এয়ারবাস কিনছি। ১০টি কিনছি। ইনশা আল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।’
এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। গত জুলাইয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য ছিল। সে সময় জানানো হয়েছিল, ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে। তবে আগস্টে চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
এর আগে আলোচনায় থাকা প্রস্তাবে চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজের কথা উঠে আসে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে মডেল, মূল্য ও অন্যান্য শর্ত কী থাকবে, তা চুক্তি সইয়ের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী জানান, বোয়িং থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। আগের ১৪টিসহ বোয়িংয়ের সঙ্গে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির কথা জানান তিনি।
এতগুলো উড়োজাহাজ কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চুক্তি সই হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব উড়োজাহাজ এখনই বহরে চলে আসবে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম নতুন উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে আসার কথা এবং সব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগতে পারে।
মন্ত্রী আরও জানান, চুক্তি করলেও এখনই সব অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না। উড়োজাহাজ সরবরাহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ পরিশোধ করা হবে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরে দেশের এভিয়েশন খাত কোথায় যাবে, সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাথায় রেখেই উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কোন কোম্পানির কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য কোন উড়োজাহাজ উপযোগী, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
এয়ারবাসকে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ দেওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কোন উড়োজাহাজ কেনা হবে, তা বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও উপযোগিতা বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হবে।
দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিমানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইনসের বহর ও অর্থনীতিতে এভিয়েশন খাতের অবদানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজই বহরে যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ধীরে ধীরে একটি বড় মিশ্র-বহর বা ‘মিক্সড ফ্লিট’ পরিচালনার দিকে যাবে।