মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নাম আলোচনায় আসার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় শেষ হলো তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদ।
বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ মিষ্টি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন।
পরে স্থানীয় সরকার রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০০২ সালে তার স্বামী ও তৎকালীন ওয়ার্ড কমিশনার সাইদুর রহমান নিউটন হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে ওই ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন মিষ্টি। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তার জনপ্রতিনিধি হিসেবে পথচলা শুরু।
এরপর একাধিকবার স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেন তিনি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিষ্টি। ৩ মে তিনি শপথ নেন। তবে সংসদে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার নাম সামনে আসে। একই সঙ্গে ২০০৬ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি বরাদ্দ চেয়ে একটি আবেদনে তার স্বাক্ষরের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিষ্টি দাবি করেন, হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বিতর্কের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এরপর তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, তার পদত্যাগের ফলে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
মিষ্টির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিএনপির দুই পরিচিত নেতার নাম। তার স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের কমিশনার। অন্যদিকে তার বড় ভাই নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সংসদ সদস্য।
পিন্টু ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৫ সালে কারাবন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
২০০২ সালে ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন নিউটন। তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পান মিষ্টি। এরপর থেকে স্থানীয় সরকার ও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন তিনি।
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিশনার, মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব এবং জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা রয়েছে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির। তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যেই তার সংসদ সদস্য হিসেবে যাত্রা শেষ হলো মাত্র পাঁচ মাসে।