জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। হাদিসে এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এমন একটি সময়, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন: ৬০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়ে কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন। এ কথা বলার সময় তিনি হাতের ইশারায় সময়টির সংক্ষিপ্ততার কথাও বোঝান। (বুখারি: ৬৪০০)
জুমার দিনে দোয়া কবুলের নির্দিষ্ট সময়টি কোনটি, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে দুটি মতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রথম মত: খতিব খুতবার জন্য মিম্বরে ওঠার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত। আবু মুসা আশআরি (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ও আবু বুরদা (রহ.)-সহ কয়েকজন এ মতের পক্ষে মত দিয়েছেন।
দ্বিতীয় মত: আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), আবু হুরায়রা (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ কয়েকজন এ মত গ্রহণ করেছেন।
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুমিন আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তা তাকে দান করবেন। তাই সেই সময়টি আসরের পর দিনের শেষ অংশে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। (আবু দাউদ: ১০৪৮)
জুমার দিনে বিশেষ করে খুতবা ও জুমার নামাজের সময় এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। কারণ, দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় এ দুই সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা আলেমরা বলেছেন।
আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা সময়ের প্রয়োজন নেই। বান্দা যে কোনো সময় তাঁর কাছে চাইতে পারে। তবে জুমার দিনের এই বিশেষ সময়ের ফজিলত মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হিসেবে বিবেচিত।